দেশে একযোগে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। একই সাথে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি থাকায় জনজীবনে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অসহনীয় এবং চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।
বর্তমানে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে মারাত্মক ‘হিটস্ট্রোক’ থেকে রক্ষা করতে জরুরি জনসচেতনতামূলক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তীব্র গরমের এই সময়ে বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি কড়া রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই সময়ে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনের তাগিদে যাদের বাইরে যেতেই হবে, তাদের সুরক্ষার জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা বা মাথা ঢাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই তৃষ্ণা না পেলেও ঘন ঘন পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি বা খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। গরমে বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করা উত্তম।

শ্রমজীবী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ পরামর্শঃ এই তীব্র গরমের মধ্যে খোলা মাঠে কৃষিকাজ বা দীর্ঘ সময় ধরে একটানা ভারী পরিশ্রমমূলক কাজ করা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময়ে মাঠপর্যায়ের শ্রমিক ও কৃষকদের সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে, ছায়াযুক্ত স্থানে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে সতর্কতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলমান এই তাপপ্রবাহের প্রভাব জুনের প্রথমার্ধ ১০ জুন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। তবে এরই মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহীর দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি পুরোপুরি কাটবে না। আগামী ১০ জুনের পর দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে এবং গরমের তীব্রতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
সর্বোপরি, এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিতে নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই রংপুর নিউজ ৭১ পোর্টালে নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, টিভি চ্যানেলের পোর্টাল থেকে খবর/নিউজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে যদি আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টাল বা টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে রংপুর নিউজ ৭১ এর সংবাদ/প্রতিবেদন, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।





