ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই সপ্তাহ। ঠিক তার আগে ঘরের মাঠ ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামকে নিজের ব্যক্তিগত উৎসবের মঞ্চে রূপ দিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের শুরুতেই চোখ ধাঁধানো এক গোল এবং পরে সতীর্থকে দিয়ে আরও এক গোল করিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে এনে দিলেন ৬-২ গোলের এক বিশাল জয়।
রোববার পানামার বিরুদ্ধে এই প্রীতি ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেলেসাওরা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি পুনরুদ্ধারে তারা কতটা ক্ষুধার্ত।
ইনজুরির কারণে দলের সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি এবং মাত্র একদিন আগে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলে আসা মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির বিশ্রামের দিনে সব আলো কেড়ে নেন স্থানীয় ছেলে ভিনিসিয়াস।
ফ্ল্যামেঙ্গো অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড নিজের পুরোনো চেনা মাঠে ঝড় তুলতে সময় নেন মাত্র দুই মিনিট। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ক্যাসেমিরো পানামার রক্ষণভাগের একটি পাস রুখে দিলে বল পান ভিনিসিয়াস। তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে বক্সের প্রান্ত থেকে জোরালো শটে বল জড়ান ওপরের বাঁ কোণায়।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে অবশ্য কিছুটা নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে পানামা। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া একটি ফ্রি-কিক ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ম্যাথিউস কুনিহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে বোকা বনে যান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
বল বাঁ পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে মারাকানার গ্যালারিতে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তবে সেই নীরবতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি ভিনিসিয়াস। ৩৯তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে এক দুর্দান্ত দৌড়ে দুই ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান তিনি, যাতে মাথা ছুঁইয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তি রক্ষণভাগের লিও পেরেইরা ছাড়া পুরো একাদশই বদলে ফেলেন। বেঞ্চ থেকে আসা নতুন খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেই পানামার রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছাড়েন। ৫২তম মিনিটে পানামার গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মস্কেরা পায়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বড় ভুল করে বসেন। তাঁর ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল জড়াতে কোনো ভুল করেননি রায়ান (৩-১)।
খেলার ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক কার্লিং শটে ব্যবধান ৪-১ করেন পাকেতা। মাত্র তিন মিনিট পর বক্সে ইগর থিয়াগোকে ফাউল করে বসেন পানামার সেই হতভাগ্য গোলরক্ষক মস্কেরা। পেনাল্টির বাঁশি বাজলে স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ৫-১ করেন থিয়াগো নিজেই।
৮১তম মিনিটে অভিজ্ঞ দানিলোর শট জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে ব্রাজিল পায় তাদের ষষ্ঠ গোল। এর তিন মিনিট পর (৮৪ মিনিটে) পানামার কার্লোস হার্ভে এক বুলেট গতির শটে ব্রাজিলের ওপরের কোণায় বল জড়িয়ে ব্যবধান ৬-২ করে কেবল সান্ত্বনা বাড়ান।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে আগামী সপ্তাহে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ১৩ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান, যেখানে গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া পানামা গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার মতো পরাশক্তিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ডমিনিকান রিপাবলিক এবং বসনিয়ার বিরুদ্ধে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। মারাকানার এই গোলবন্যা ব্রাজিলের সমর্থকদের মনে হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জয়ের স্বপ্নকে যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
এই রংপুর নিউজ ৭১ পোর্টালে নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, টিভি চ্যানেলের পোর্টাল থেকে খবর/নিউজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে যদি আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টাল বা টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে রংপুর নিউজ ৭১ এর সংবাদ/প্রতিবেদন, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।





