চব্বিশের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা-গুলিবর্ষণের ঘটনায় ম্লান হয়েছে আওয়ামী লীগের অতীতের অনেক অর্জন। পুলিশের পাশাপাশি অনেক নেতাকর্মীও সরাসরি রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণের বিরুদ্ধে। যার ফলে দলীয় প্রধানের পালানোর পাশাপাশি নেতাদের প্রায় সবাইকে চলে যেতে হয় লোকচক্ষুর অন্তরালে।
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দলটির। তার মাঝেও বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করেন কেউ কেউ। এরপর ভোট শেষে বিএনপি সরকার গঠনের পর কয়েক জায়গায় খোলা হয়েছে কার্যালয়। মানে রাজনীতিতে ফেরা আসার চেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য ভিন্নভাবে দেখতে চান আওয়ামী লীগের বিষয়টি। তাদের মতে, কেবল আইনিভাবে মোকাবেলা করে জনমানুষের কাছে দলটিকে অপ্রাসঙ্গিক করে রাখা যাবে না। এত বড় অভ্যুত্থান ও গণহত্যার পর সামাজিকভাবে দলটিকে মোকাবেলার প্রয়োজন। এই দায়িত্ব অভ্যুত্থানের পক্ষ শক্তিগুলোর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, আইনের যে পরিবর্তন, এই যে অধ্যাদেশ এগুলো হলো সমাজের উপরের কাঠামো। এই কাঠামোর পরিবর্তন নাগরিকরে ছুঁইতে পারে না। নাগরিকরা ছুঁইতে পায়, তাদের চাহিদা যদি এর দ্বারা কোনোভাবে পরিপূর্ণ হয়। জুলাই পরবর্তী সমাজে মানুষ কী কী পেলো, সেটা দিয়ে তারা মূল্যায়ন করবে জুলাই তাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলেছে, এটাকে বলে সামাজীকরণ।
রাজনীতি বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, এসব ঘটনা তো মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে দেখেছে, সাথে যারা মারা গেছেন তারা আত্মীয়স্বজন রাস্তায় আসছে, কান্নাকাটি করছে। এগুলোতে মানুষের মন অন্যদিকে চলে যায়। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারব্যবস্থা শেষ না করেই আওয়ামী লীগ এ দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।
বিএনপি নিজেদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার হিসেবে দেখতে চায়। নেতারা মনে করেন, কাউকে বয়কট বা তুলে আনার দায়িত্ব জনগণের।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ তো একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। আর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক দলও তারা না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত না বা কখনো কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে বা বড় ধরনের দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়নি তাদের ব্যাপারে তো প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।
চব্বিশের পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুয়েকটি বক্তব্য দেখা গেলেও দেশের মাটিতে তাদের কাউকে দেখা যায়নি এখনো।
এই রংপুর নিউজ ৭১ পোর্টালে নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, টিভি চ্যানেলের পোর্টাল থেকে খবর/নিউজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে যদি আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টাল বা টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে রংপুর নিউজ ৭১ এর সংবাদ/প্রতিবেদন, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।





